বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
জলবায়ু হুঁশিয়ারি: থাকবে প্রকৃতি, নাকি থাকবে মানুষ?
অনলাইন ডেস্ক
প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “জীববৈচিত্র্য আজ ধ্বংসের মুখে, আর তার মূল হোতা—আমরাই। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা আমাদের পাপের দলিল হয়ে উঠছে।”
তিনি বলেন, “পৃথিবীর সর্বনাশে কারা দায়ী, তা খুঁজতে হবে না—কারণ আমরা সবাই সেই আসামি। এই সভায় যারা উপস্থিত, তারাও কেউ বাদ নন।”
প্রধান উপদেষ্টার কণ্ঠে ছিলো উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আশা। তিনি বলেন, “আজকের পৃথিবী নানা সংকটে আবদ্ধ। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহার—এসব আমাদের নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ানক একটি চ্যালেঞ্জ, যেটাকে আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না, তা হলো প্রকৃতির প্রতিশোধ।”
তার ভাষায়, “প্রকৃতির কোনো দোষ নেই, বরং প্রকৃতিকে যারা প্রতিনিয়ত বিধ্বস্ত করছে, সেই মানবজাতিই প্রকৃত অপরাধী। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বদলে তাকে পেছনে ফেলে সামনে ছুটতে চাইছি। আর সেই ছুটে চলার পথে আমরা নিজেরাই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছি।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “জলবায়ু সংকট এখন দৈত্যকার রূপ নিচ্ছে। সে যেন বলে দিচ্ছে—‘আমরা দুইজন একসাথে থাকতে পারব না, হয় আমি থাকব, নয়তো তুমি।’ এই দ্বৈরথে কে টিকে থাকবে, সেটা নির্ভর করছে আমাদের সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ববোধের ওপর।”
তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও শক্তির প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তরুণরাই দেখিয়েছে তারা দূষণমুক্ত, সুন্দর এক নতুন শহর গড়তে চায়। জুলাই মাসে আমরা সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখেছি। এটাই আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সৃজনশীল প্রজন্ম। তাই জলবায়ু লড়াইয়ে তারাই হতে পারে সবচেয়ে বড় আশার আলো।”
সবশেষে তিনি আহ্বান জানান—প্লাস্টিক ব্যবহারে সংযম ও সচেতনতা গড়ে তুলতে। কারণ যতক্ষণ না আমরা নিজেরাই বদলাচ্ছি, ততক্ষণ প্রকৃতি তার প্রতিশোধ বন্ধ করবে না।